রিজিক শব্দটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। সাধারণত আমরা রিজিক বলতে খাদ্য ও অর্থকেই বুঝে থাকি। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিকের অর্থ অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। এটি কেবল খাবার বা অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জীবনের প্রতিটি দান ও অনুগ্রহই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
রিজিকের সংজ্ঞা
রিজিক শব্দটি আরবি “رزق” (রিজক) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা, ভরণ-পোষণ বা যে কোনো ধরনের দান, যা আল্লাহ মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির জন্য নির্ধারণ করেছেন। কুরআন ও হাদিসে রিজিকের ব্যাপারে অনেক আলোচনা রয়েছে, যেখানে আল্লাহ বলেছেন যে, তিনিই সকল সৃষ্টির জন্য রিজিক নির্ধারণ করেছেন।
ইসলামে রিজিকের ধারণা
ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিক শুধু খাদ্য ও পানীয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জ্ঞান, স্বাস্থ্য, পরিবার, সময়, বন্ধুত্ব, মানসিক শান্তি ইত্যাদিও রিজিকের অংশ।
১. হালাল ও হারাম রিজিক
ইসলাম ধর্মে হালাল রিজিক অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “হালাল উপার্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।” (তিরমিজি)
২. রিজিকের উৎস
রিজিকের মূল উৎস আল্লাহ। তিনি বলেন, “আকাশ ও পৃথিবীর সম্পদ আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং যাকে ইচ্ছা কমিয়ে দেন।” (সুরা শুরা: ১২)
৩. তাকওয়া ও রিজিক বৃদ্ধি
কুরআনে উল্লেখ আছে: “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (সুরা আত-তালাক: ২-৩)
রিজিক বৃদ্ধির উপায়
১. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা ২. হালাল পথে উপার্জন করা ৩. নিয়মিত নামাজ ও দোয়া করা ৪. অভিভাবক ও আত্মীয়দের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা ৫. গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করা ৬. শুকরিয়া আদায় করা
রিজিকের প্রকারভেদ
রিজিককে সাধারণত দুইটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
১. বাহ্যিক রিজিক
এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, অর্থ এবং সম্পদের সাথে সম্পর্কিত। বাহ্যিক রিজিক মানুষকে শারীরিকভাবে বাঁচিয়ে রাখে এবং তার জীবনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে।
২. আধ্যাত্মিক রিজিক
আধ্যাত্মিক রিজিক হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ঈমান, আত্মার প্রশান্তি এবং ধর্মীয় জ্ঞান। এটি মানুষের আত্মাকে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে সঠিক পথ দেখায়।
রিজিক সম্পর্কে ভুল ধারণা
অনেক সময় মানুষ মনে করে যে, শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই রিজিক বৃদ্ধি পাবে। যদিও পরিশ্রম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ইসলামে বলা হয়েছে যে, রিজিকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে। কেউ অনেক চেষ্টা করেও তার কাঙ্ক্ষিত রিজিক পায় না, আবার কেউ কম প্রচেষ্টা করেও প্রচুর রিজিক পায়। এজন্য আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত।
ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা
রিজিক কখনো বেশি, কখনো কম হতে পারে। তাই আমাদের উচিত সবসময় ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। কুরআনে বলা হয়েছে, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, আমি তোমাদের জন্য আরো বৃদ্ধি করব।” (সুরা ইবরাহিম: ৭)
উপসংহার
রিজিক শুধুমাত্র বস্তুগত নয়, বরং এটি জীবনের প্রতিটি ভালো জিনিসের প্রতিফলন। ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিক হলো আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ নিয়ামত, যা কেবল খাদ্য বা সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। তাই আমাদের উচিত হালাল পথে রিজিক অন্বেষণ করা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।