রিজিক (জীবিকা) মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আল্লাহ তায়ালার দান। ইসলামে রিজিককে শুধুমাত্র বস্তুগত উপার্জন নয়, বরং আত্মিক ও আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবেও দেখা হয়। কোরআনে অসংখ্যবার রিজিকের প্রসঙ্গ এসেছে, যেখানে আল্লাহ তায়ালা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনিই তাঁর বান্দাদের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। নিচে কোরআনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত উল্লেখ করা হলো।
১. আল্লাহই রিজিকদাতা
“আল্লাহই রিজিকদাতা, মজবুত ক্ষমতার অধিকারী ও শক্তিশালী।”
📖 (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮)
এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রকৃত রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ। তিনি যার জন্য যেভাবে নির্ধারণ করেন, সে সেভাবেই পায়।
২. আল্লাহ যার ইচ্ছা রিজিক বাড়ান এবং কমান
“আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন।”
📖 (সূরা আর-রাদ ১৩:২৬)
এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে যে, রিজিক সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তিনি যার জন্য ইচ্ছা বেশি দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা কমিয়ে দেন, এতে মানুষের ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার পরীক্ষা হয়।
৩. তাকওয়াপূর্ণদের জন্য আল্লাহ রিজিকের পথ খুলে দেন
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
📖 (সূরা আত-তালাক ৬৫:২-৩)
এখানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ এমন উপায়ে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা তাদের চিন্তার বাইরেও হতে পারে।
৪. শুধু দুনিয়ার রিজিক কামনা নয়, আখিরাতের দোয়া করাও জরুরি
“তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও, এবং আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।”
📖 (সূরা আল-বাকারাহ ২:২০১)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, দুনিয়ার রিজিকের পাশাপাশি আখিরাতের কল্যাণও চাইতে হবে। কারণ প্রকৃত সফলতা পরকালের সফলতাতেই নিহিত।
উপসংহার
রিজিকের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখা উচিত যে, এটি একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই হালাল উপায়ে উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে, এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। দোয়া, তাকওয়া ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রিজিকের দরজা খুলে দেন।